ভালো খেজুর চেনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায়
ভালো খেজুর চেনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায়

ভালো খেজুর চেনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায়

ভালো খেজুর চেনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো—

১। রঙ ও উজ্জ্বলতা: ভালো খেজুর সাধারণত গাঢ় বাদামি বা লালচে বাদামি রঙের হয় এবং উজ্জ্বল থাকে। অতিরিক্ত ফ্যাকাশে বা বিবর্ণ খেজুর এড়িয়ে চলা উচিত।

২। আকৃতি ও গঠন: সমান আকৃতির, মসৃণ ও মাংসল খেজুর ভালো হয়। অতিরিক্ত শুকনো বা কুঁচকে যাওয়া খেজুর কম মানের হতে পারে।

৩। স্বাদ ও গন্ধ: খেজুরের গন্ধ হালকা মিষ্টি হওয়া উচিত। টক বা দুর্গন্ধযুক্ত খেজুর পচা বা নষ্ট হতে পারে।

৪। চিপচিপে ভাব: প্রাকৃতিকভাবে কিছুটা আর্দ্র ও নরম খেজুর ভালো হয়। তবে অস্বাভাবিক বেশি চিপচিপে হলে অতিরিক্ত চিনি বা কেমিক্যাল ব্যবহার করা হতে পারে।

৫। বীজ ও ভেতরের অংশ: ভালো খেজুরের বীজ ভেতরে শক্ত ও গোটা থাকবে। ছিদ্রযুক্ত বা ভেতরে কালচে রঙ থাকলে তা এড়িয়ে চলা ভালো।

৬। কীট-পতঙ্গের চিহ্ন: খেজুরে পোকামাকড় বা ফাঙ্গাস (সাদা আবরণ) থাকলে তা স্বাস্থ্যকর নয়।

৭। সংরক্ষণ পদ্ধতি: যদি সম্ভব হয়, ফ্রেশ খেজুর কিনুন এবং সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না দেখে নিন। রাসায়নিকযুক্ত বা বেশি পুরোনো খেজুর স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

৮। তাজা ও শুকনা খেজুরের পার্থক্য বুঝুন:

    • তাজা খেজুর বেশি মসৃণ, কিছুটা আর্দ্র ও নরম হয়।
    • শুকনা খেজুর কম আর্দ্র, কিছুটা শক্ত ও কুঁচকে যেতে পারে, তবে খুব বেশি শুকনো হলে ভালো নয়।

৯। অতিরিক্ত চকচকে খেজুর এড়িয়ে চলুন:

    • কিছু অসাধু বিক্রেতা খেজুরকে চকচকে দেখানোর জন্য কৃত্রিম তেল বা রাসায়নিক ব্যবহার করে। প্রাকৃতিক ভালো খেজুর সাধারণত হালকা উজ্জ্বল থাকে, কিন্তু খুব বেশি চকচকে হলে তা সন্দেহজনক হতে পারে।

১০। চিনি মেশানো খেজুর চিনুন:

  • অনেক সময় খেজুরের উপর কৃত্রিম চিনি বা গ্লুকোজ সিরাপ দেওয়া হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। ভালো খেজুর খেলে স্বাভাবিক মিষ্টি লাগবে, কিন্তু অতিরিক্ত মিষ্টি বা আঠালো মনে হলে তা চিনি মেশানো হতে পারে।

১১। খেজুরের ওজন পরীক্ষা করুন:

  • ভালো মানের খেজুর তুলনামূলকভাবে ভারী হয়, কারণ এতে প্রাকৃতিক আর্দ্রতা থাকে। খুব বেশি হালকা খেজুর বেশি শুকনো বা পুরোনো হতে পারে।

১২। খেজুরের ছাল বা খোসা খেয়াল করুন:

  • ভালো খেজুরের ছাল সাধারণত শক্ত ও মসৃণ হয় এবং সহজে খোসা উঠে আসে না। বেশি কুঁচকে যাওয়া বা আলগা খোসাযুক্ত খেজুর পুরোনো হতে পারে।

১৩। জলীয় অংশ বেশি থাকলে সতর্ক হোন:

  • কিছু খেজুর বেশি আর্দ্র দেখায়, যা প্রাকৃতিক হতে পারে, তবে কখনও কখনও জলীয় পদার্থ মিশিয়ে দেওয়া হয়। হাত দিয়ে চেপে দেখলে বেশি আঠালো বা চিপচিপে লাগলে তা সন্দেহজনক হতে পারে।

১৪। প্যাকেটজাত খেজুর হলে মেয়াদ ও উপাদান দেখুন:

  • বাজারে পাওয়া প্যাকেটজাত খেজুরের মেয়াদ, উপাদান ও সংরক্ষণ পদ্ধতি দেখে নিন। যদি অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ বা রাসায়নিক ব্যবহারের উল্লেখ থাকে, তাহলে তা এড়িয়ে চলাই ভালো।

১৫। দেশি ও বিদেশি খেজুরের পার্থক্য বুঝুন:

  • সৌদি, ইরানি, মিসরীয়, তিউনিসিয়ান, দেশি বিভিন্ন ধরনের খেজুর পাওয়া যায়। প্রতিটি খেজুরের আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে, তাই ভালো মানের নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড বা উৎস থেকে কেনাই উত্তম।

 

 

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *